সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ , ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মোল্লাপাড়ায় প্রবাসীর বাড়ির ফলজ গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ এক মাঠেই ৫২ জাতের ধান, সেরা জাত বাছাইয়ের সুযোগ কৃষকের দেশে সাইবার হামলা নিয়ে উচ্চ সতর্কতা জারি সেতু নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী দেখে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেন এমপি কামরুল শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন: নৌকায় কৈলাস ফিরলেন দেবী দুর্গা সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ়, এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে : এমপি নূরুল ইসলাম সাফেলা বড় বিল ও কুড়ি বিলে দখল বুঝিয়ে দিতে বাধা শুভ বিজয়া : অশুভের বিনাশ, সম্প্রীতি ও গণতন্ত্রের জয় হোক বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হল শারদীয় দুর্গোৎসব ৩০ অক্টোবর শুরু হচ্ছে হাজীপাড়া ফুটবল প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় আসর, ২৩ অক্টোবর প্লেয়ার নিলাম সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পূজা করবে আর আনন্দটা সবার, বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মসিউর রহমান সাংবাদিক আলিফ হত্যাকারীদে শাস্তির দাবি তাহিরপুরে মানববন্ধন মধ্যনগরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে ইনামুল গণি তালুকদার রুবেল সুনামগঞ্জে দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা সন্তোষজনক: সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি সাংবাদিক আলিফ হত্যা ও মোত্তালিব ভূঁইয়ার ওপর হামলার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন দিরাইয়ে মাদকবিরোধী সভার পর প্রবাসী লিমনের ওপর হামলার অভিযোগ ‎সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ি : প্রধানমন্ত্রী ‎সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে আমাদের কোনো দ্বিধা নেই : আইনমন্ত্রী শান্তিগঞ্জে ১৬২ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত ‎মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক

বাঁধের কাজে অর্থ সংকট কাম্য নয়

  • আপলোড সময় : ০২-০২-২০২৬ ০১:৩৫:৪৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০২-০২-২০২৬ ০১:৩৫:৪৮ পূর্বাহ্ন
বাঁধের কাজে অর্থ সংকট কাম্য নয়
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ফসল শুধু একটি মৌসুমি আবাদ নয়, এটি লাখো কৃষকের সারা বছরের জীবিকার ভরসা। সেই ফসলকে আগাম বন্যার হাত থেকে রক্ষা করতে প্রতিবছর সরকার বিপুল অর্থ ব্যয়ে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে থাকে। অথচ চলতি মৌসুমে সেই বাঁধ নির্মাণই যেন বড় সংকটে পড়েছে- অর্থ সংকট ও প্রশাসনিক গড়িমসির কারণে। সংশোধিত কাবিটা নীতিমালা-২০২৩ অনুযায়ী ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ের মধ্যেই বাঁধের কাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো- সময় প্রায় শেষের পথে, অথচ মাঠপর্যায়ে অধিকাংশ বাঁধে কাজের অগ্রগতি আশঙ্কাজনকভাবে ধীর। স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী অনেক বাঁধে কাজ হয়েছে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। বিপরীতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে ৫০ শতাংশ কাজ শেষ। এই পরিসংখ্যানগত ফারাকই প্রশ্ন তোলে- বাস্তব অগ্রগতি কোথায়? সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো অর্থ ছাড়ের চিত্র। বাঁধ নির্মাণের জন্য বরাদ্দের বিপরীতে প্রথম কিস্তিতে মাত্র ১৬ শতাংশ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। অথচ শ্রমিকের মজুরি, ভেকু ভাড়া, মাটি পরিবহন - সবই নগদ অর্থনির্ভর। ফলে পিআইসি সভাপতিরা বাধ্য হচ্ছেন মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা ধার নিতে। এতে একদিকে যেমন কাজের গতি থমকে যাচ্ছে, অন্যদিকে প্রকল্পের অর্থের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে সুদের খরচে, যা স¤পূর্ণভাবে জনস্বার্থবিরোধী। ২০১৭ সালের অকাল বন্যার পর ঠিকাদারি প্রথা বাতিল করে পিআইসি পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য। কিন্তু সময়মতো অর্থ না দিয়ে সেই ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে কি না - সে প্রশ্ন এখন হাওরজুড়ে। সচেতন মহলের অভিযোগ, পিআইসি ব্যবস্থাকে ব্যর্থ প্রমাণ করতেই পরিকল্পিতভাবে অর্থ ছাড়ে বিলম্ব করা হচ্ছে, যাতে আবার পুরনো ঠিকাদারি প্রথা ফিরিয়ে আনা যায়। আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত বরাদ্দ, প্রকল্প বাছাইয়ে স্বচ্ছতার অভাব এবং “শুভঙ্করের ফাঁকি”র মতো কৌশলের বিষয়ে। এসব অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে তা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, এটি সরাসরি কৃষকের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। পাউবো কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে শিগগিরই আরও অর্থ ছাড় দেওয়া হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে। কিন্তু হাওরের বাস্তবতা আশ্বাসে চলে না, চলে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। ফেব্রুয়ারির শেষে বাঁধ অস¤পূর্ণ থাকলে মার্চের আগাম বন্যাই সব হিসাব শেষ করে দিতে পারে। এই অবস্থায় সরকারের উচিত অবিলম্বে সব পিআইসিকে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় দেওয়া, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং মাঠপর্যায়ে কঠোর তদারকি জোরদার করা। হাওরের বাঁধ শুধু মাটির দেয়াল নয়, এটি কৃষকের বাঁচা-মরার প্রশ্ন। এই দেয়াল ভাঙলে দায় এড়ানোর সুযোগ থাকবে না কারও। আমাদের মনে রাখতে হবে, হাওর রক্ষা মানেই কৃষক রক্ষা। আর কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
এক মাঠেই ৫২ জাতের ধান, সেরা জাত বাছাইয়ের সুযোগ কৃষকের

এক মাঠেই ৫২ জাতের ধান, সেরা জাত বাছাইয়ের সুযোগ কৃষকের