সুনামগঞ্জ , রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ , ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন বিল সংসদে পাস কোথাও ধান কাটার উৎসব, কোথাও জলের নিচে স্বপ্ন মুক্তিপণ নেয়ার পরও অপহরণকারীরা ফেরত দেয়নি মোনায়েমকে, উৎকণ্ঠায় পরিবার টাঙ্গুয়ার হাওরে ৫০ কোটি টাকার প্রকল্প কমিউনিটি ভিত্তিক স্বপ্ন কি টিকে থাকবে? দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার, দিস ইজ পার্লামেন্ট : হাসনাত আব্দুল্লাহকে স্পিকার সংসদে ১৩ দিনে ৯১টি বিল পাস শাল্লায় নিরীহ পরিবারের বাসা দখলে ঘোষণা দিয়ে হামলা ত্যাগী নেত্রীদের মূল্যায়ন চায় বিএনপি’র তৃণমূল দালালের ফাঁদে নিঃস্ব অভিবাসন প্রত্যাশীরা, হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা দিরাইয়ে পৃথক সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ২০ ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিল’ পাস শান্তিগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধ কর্তন পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, মেরামতের নির্দেশ উদ্বোধন হলো ‘মা ও শিশু হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ হাওরে দেশি ধান কাটা শুরু দোয়ারাবাজারে অভিযুক্ত শিক্ষককে কর্মস্থলে ফেরানোর চেষ্টায় শিক্ষার্থীদের বাধা বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষক নিহত উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেন সাইফুল ইসলাম নিজেদের টাকায় সরকারি সড়ক সংস্কার করলেন এলাকাবাসী ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন-২০২৬’ সংসদে পাস

বাঁধের কাজে অর্থ সংকট কাম্য নয়

  • আপলোড সময় : ০২-০২-২০২৬ ০১:৩৫:৪৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০২-০২-২০২৬ ০১:৩৫:৪৮ পূর্বাহ্ন
বাঁধের কাজে অর্থ সংকট কাম্য নয়
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ফসল শুধু একটি মৌসুমি আবাদ নয়, এটি লাখো কৃষকের সারা বছরের জীবিকার ভরসা। সেই ফসলকে আগাম বন্যার হাত থেকে রক্ষা করতে প্রতিবছর সরকার বিপুল অর্থ ব্যয়ে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে থাকে। অথচ চলতি মৌসুমে সেই বাঁধ নির্মাণই যেন বড় সংকটে পড়েছে- অর্থ সংকট ও প্রশাসনিক গড়িমসির কারণে। সংশোধিত কাবিটা নীতিমালা-২০২৩ অনুযায়ী ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ের মধ্যেই বাঁধের কাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো- সময় প্রায় শেষের পথে, অথচ মাঠপর্যায়ে অধিকাংশ বাঁধে কাজের অগ্রগতি আশঙ্কাজনকভাবে ধীর। স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী অনেক বাঁধে কাজ হয়েছে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। বিপরীতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে ৫০ শতাংশ কাজ শেষ। এই পরিসংখ্যানগত ফারাকই প্রশ্ন তোলে- বাস্তব অগ্রগতি কোথায়? সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো অর্থ ছাড়ের চিত্র। বাঁধ নির্মাণের জন্য বরাদ্দের বিপরীতে প্রথম কিস্তিতে মাত্র ১৬ শতাংশ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। অথচ শ্রমিকের মজুরি, ভেকু ভাড়া, মাটি পরিবহন - সবই নগদ অর্থনির্ভর। ফলে পিআইসি সভাপতিরা বাধ্য হচ্ছেন মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা ধার নিতে। এতে একদিকে যেমন কাজের গতি থমকে যাচ্ছে, অন্যদিকে প্রকল্পের অর্থের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে সুদের খরচে, যা স¤পূর্ণভাবে জনস্বার্থবিরোধী। ২০১৭ সালের অকাল বন্যার পর ঠিকাদারি প্রথা বাতিল করে পিআইসি পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য। কিন্তু সময়মতো অর্থ না দিয়ে সেই ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে কি না - সে প্রশ্ন এখন হাওরজুড়ে। সচেতন মহলের অভিযোগ, পিআইসি ব্যবস্থাকে ব্যর্থ প্রমাণ করতেই পরিকল্পিতভাবে অর্থ ছাড়ে বিলম্ব করা হচ্ছে, যাতে আবার পুরনো ঠিকাদারি প্রথা ফিরিয়ে আনা যায়। আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত বরাদ্দ, প্রকল্প বাছাইয়ে স্বচ্ছতার অভাব এবং “শুভঙ্করের ফাঁকি”র মতো কৌশলের বিষয়ে। এসব অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে তা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, এটি সরাসরি কৃষকের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। পাউবো কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে শিগগিরই আরও অর্থ ছাড় দেওয়া হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে। কিন্তু হাওরের বাস্তবতা আশ্বাসে চলে না, চলে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। ফেব্রুয়ারির শেষে বাঁধ অস¤পূর্ণ থাকলে মার্চের আগাম বন্যাই সব হিসাব শেষ করে দিতে পারে। এই অবস্থায় সরকারের উচিত অবিলম্বে সব পিআইসিকে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় দেওয়া, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং মাঠপর্যায়ে কঠোর তদারকি জোরদার করা। হাওরের বাঁধ শুধু মাটির দেয়াল নয়, এটি কৃষকের বাঁচা-মরার প্রশ্ন। এই দেয়াল ভাঙলে দায় এড়ানোর সুযোগ থাকবে না কারও। আমাদের মনে রাখতে হবে, হাওর রক্ষা মানেই কৃষক রক্ষা। আর কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স